বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন

তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান ১০% করার প্রস্তাব সিএসইর

তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান ৭ দশমিক ৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হলে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে।

এছাড়া নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য তিন বছর কর অবকাশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) গতকাল চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে, যেখানে দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সময়োপযোগী, সাহসী ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুততর সেটলমেন্ট ব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তন এবং বিদেশী বিনিয়োগ সহজীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা সিএসই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত নীতিকৌশল বাজেট কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দীর্ঘদিন ধরে সিএসইর উপস্থাপিত সংস্কার প্রস্তাবের স্বীকৃতি।

তিনি জানান, বাজেটে ঘোষিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা, যেখানে সরকার লাইসেন্স সক্রিয়করণ, বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে। সিএসই এরই মধ্যে এ এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ট্রেডিং প্লাটফর্ম প্রস্তুত করেছে এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ সেগমেন্টে কর অবকাশ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজার গড়ে ওঠে। সিএসইর নেক্সট জেনারেশন ট্রেডিং সিস্টেম যেকোনো ধরনের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ, গ্রিন বন্ড, সুকুক ও ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সময় নির্ধারিত করার উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগকে সিএসই স্বাগত জানায়। সিএসই এরই মধ্যে শক্তিশালী অটোমেটেড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং ক্লাউড-রেডি আইটি অবকাঠামো ব্যবহার করছে, যা সরকারের ডিজিটাল সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিংয়ে সক্ষম।’

লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়, সরকার টি+২2থেকে ধাপে ধাপে টি+০ সেটলমেন্টে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বাজারের তারল্য বৃদ্ধি ও মূলধনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে। সিএসই এরই মধ্যে ইনট্রা-ডে সেটলমেন্ট প্রক্রিয়া চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং ট্রেড-ফর-ট্রেড ব্যবস্থার বিকল্প উন্নয়নে কাজ করছে।

মূলধন সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তি সহজীকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকনির্ভর হলেও শক্তিশালী পুঁজিবাজার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের সক্রিয়তা এবং বন্ড মার্কেট উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। করপোরেট বন্ড, সুকুক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ও পৌর বন্ডের বিকাশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হয়।

সিএসই তাদের প্রস্তাবে জানায়, কমোডিটি সেগমেন্টে পাঁচ বছরের কর অবকাশ, অনাবাসী টেকনিক্যাল সেবায় উৎসে কর ১০ শতাংশে নামানো ও মূসক কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।

পাশাপাশি করপোরেট বন্ড মার্কেটের জন্য জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বাজার পেনিট্রেশন বৃদ্ধির সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখার প্রস্তাবও দেয়া হয় সেখানে। সরকারের সংস্কারমুখী নেতৃত্ব ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সিএসই সক্রিয়ভাবে সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানায় সংস্থাটি।

আরও